মরহুম জনাব আব্দুস সাত্তার সাহেব ইন্তেকাল করেছেন। ইন্তেকালের সময় ওয়ারিশ হিসেবে রেখে গেছেন তিন ছেলে এক মেয়ে এক স্ত্রী (আরও এক মেয়ে ছিলেন যিনি মরহুমের জীবদ্দশায় মারা গিয়েছেন)। আর বাকিরা সকলেই মরহুমের পরে মারা গিয়েছেন। মরহুম জনাব আব্দুস সাত্তার সাহেবের ইন্তেকালের পর প্রথমে তার স্ত্রী মারা গিয়েছেন। তার ওয়ারিশও এই ছেলে মেয়েরাই ছিলেন। তারপরে ছেলে আবু বকর সিদ্দিক মারা গিয়েছেন। যার রয়েছে দুই ছেলে এক মেয়ে এক স্ত্রী সবাই জীবিত আছেন।
তারপরে আরেক ছেলে নূরনবী চৌধুরী মারা গিয়েছেন। যার রয়েছে এক ছেলে এক মেয়ে এক স্ত্রী সবাই জীবিত।
তারপরে আরেক ছেলে মৃত শাহজাহান মারা গিয়েছেন। যার রয়েছে তিন ছেলে এক স্ত্রী সবাই জীবিত। তারপর
মেয়ে মরহুমা রেনু মারা গিয়েছেন। যার রয়েছে তিন ছেলে তিন মেয়ে । এক ছেলে মারা গিয়েছে মরহুমার মৃত্যুর পরে যার রয়েছে (ছেলের)
এক মেয়ে এক স্ত্রী দুই ভাই। শরিয়তের দৃষ্টিতে কে কতটুকু অংশ পাবে?
মৃত ব্যক্তির ওয়ারিশ হওয়ার জন্য শর্ত হল মৃত ব্যক্তির ইন্তেকালের সময় সেই ওয়ারিশ জীবিত থাকা। তাই জনাব আব্দুস সাত্তার সাহেব এবং তার স্ত্রীর ইন্তেকালের পূর্বেই তাদের যেই মেয়ে মারা গিয়েছে সে সম্পদ থেকে বঞ্চিত হবে।
كما في در المختار: أَنَّ شَرْطَ الْإِرْثِ وُجُودُ الْوَارِثِ حَيًّا عِنْدَ مَوْتِ الْمُوَرِّث.(كتاب الفرائض، ج:6، ص:769، ط: دار الفكر، بيروت) -
অতএব জনাব আব্দুস সাত্তার সাহেবর পরিত্যক্ত সম্পদ শরীয়তের মূলনীতি অনুযায়ী এভাবে বণ্টন করা হবে যে মরহুম ইন্তাকালের সময় নগদ টাকা, স্থাবর-অস্থাবর সকল সম্পত্তি, স্বর্ণ-রুপা ও ঘরের ছোট-বড় আসবাবপত্র সহ যা কিছু তার মালিকানাধীন রেখে গেছেন সব কিছু তার পরিত্যক্ত সম্পদ হিসাবে গণ্য হবে এবং তা থেকে কোন প্রকার কার্পণ্য ও অপচয় ব্যতীত প্রথমে মৃত ব্যক্তির কাফন-দাফনের ব্যবস্থা করা হবে। অতপর মৃত ব্যক্তির কোন ঋণ থাকলে অথবা স্ত্রীর মহর আদায় না করে থাকলে পূর্ণ সম্পদ থেকে তা আদায় করতে হবে। অতপর মৃত ব্যক্তি কারো জন্য অসিয়ত করে থাকলে কিংবা নামাজ, রোজা ইত্যাদির কাফফারা আদায়ের অসিয়ত করে থাকলে তা একতৃতীয়াংশ সম্পদ থেকে পূর্ণ করবে। এরপর যা অবশিষ্ট থাকবে তা ৮৮২০ ভাগে ভাগ করবে। যা থেকে মৃত ব্যক্তির পুত্রবধু (আবু বকরের স্ত্রিকে) ৩১৫ ভাগ , নাতি (আবু বকরের প্রত্যেক ছেলেকে) ৮৮২ ভাগ করে, নাতনি (আবু বকরের মেয়েকে) ৪৪১ ভাগ, আরেক পুত্রবধু (নূর নবীর স্ত্রিকে) ৩১৫ ভাগ , নাতি (নূর নবীর ছেলেকে) ১৪৭০ ভাগ, নাতনি (নূর নবীর মেয়েকে) ৭৩৫ ভাগ, আরেক পুত্রবধু (শাহজাহানের স্ত্রিকে) ৩১৫ ভাগ , নাতি (শাহজাহানের প্রত্যেক ছেলেকে) ৭৩৫ ভাগ করে এবং নাতি (মৃত ব্যক্তির মেয়ে রেনুর প্রত্যেক ছেলেকে) ৩১০ ভাগ করে, নাতনি (মৃত ব্যক্তির মেয়ে রেনুর প্রত্যেক মেয়েকে) ১৫৫ ভাগ করে, নাতির স্ত্রী (মৃত ব্যক্তির মেয়ে রেনুর পুত্রবধুকে) ৩৫ভাগ এবং পুতি ((মৃত ব্যক্তির মেয়ে রেনুর ছেলের ঘরের নাতিকে) ১৪০ ভাগ দেওয়া হবে। অধিক সহজের জন্য শতকরা কে কত পাবে তা সহ বিস্তারিত নিম্নে দেওয়া হল।