আসসালামু আলাইকুম! আমার কাবিন নামায় ১৮ নং কলামে " পারিবারিক ও মুসলিম আইন " অনুযায়ী তালাক গ্রহণের অধিকার রয়েছে। আর আমরা জানি যে পারিবারিক ও মুসলিম আইন এ কিছু শর্ত রয়েছে। তার মধ্যে স্ত্রীকে ভরণপোষণ দেয়া অন্যতম একটি শর্ত। ফাত্ওয়া নিতে নিচের যে ঘটনাটি শেয়ার করবো সেই ঘটনা ঘটনাকালীন সময়ে আমার স্বামী আমাকে ভরণপোষণ দিতে পারতোনা বেকার ছিলো বলে। কারণ আমাদের বিয়ে হয় ছাত্র জীবনেই। এবং সে যে প্রতিষ্ঠিত হয়ে আমার ভরণপোষণ দিবে এটা আমার পরিবারের সবাইই জানতো। আমার বাবা নেই। যেহেতু আমার বাবা নেই তাই আমার মাকে বিয়ের আগে আমার স্বামী বলেছিলো যে বিয়ের পরও যতদিন পর্যন্ত সে চাকরী-বাকরী বা ব্যবসা-বাণিজ্য করে ভরনপোষণ দিতে সক্ষম না হবে ততদিন পর্যন্ত যেন আমার মা-ই আমার ভরনপোষণ দেয়। পরে সে প্রতিষ্ঠিত হয়ে ভরণপোষণ দিবে। এখন আমার স্বামী আলহামদুলিল্লাহ ভরণপোষণ দেয় আমাকে। কারণ এখন তার ব্যবসা হয়েছে। কিন্তু ফাত্ওয়া নেয়ার যে ঘটনাটি উল্লেখ করবো সেই ঘটনাটি ঘটাকালীন সময়ে আমার স্বামী বেকার ছিলো বলে তখন আমাকে ভরণপোষণ দিতে পারতোনা। তবে ছোটো খাটো উপহার দিতো তখনও তার সাধ্যমতো। এবং নানা রকম উপকারও করতো সুযোগ পেলেই। আর আমি তাতেই সন্তুষ্ট আলহামদুলিল্লাহ। এবার ঘটনাটি বলি : আমি আমার এক বান্ধবীর সাথে কোনো একটা বিষয়ে মিথ্যাচার করি। মানে কোনো একটা বিষয়ে বান্ধবীকে মিথ্যা বানিয়ে বলি। কিন্তু কোনোভাবে আমার সেই বান্ধবী বুঝে ফেলে যে আমি তার সাথে মিথ্যাচার করেছি। আমি এমন করুন পরিস্থিতিতে পড়ি যে প্রকৃতপক্ষে মিথ্যা কথা বলেও আমাকে সম্মান রক্ষার দায়ে বান্ধবীর কাছে মিথ্যে কসম করতে হয়। আমি কসম করে বলি : "আল্লাহর কসম মিথ্যা বললে ডিভোর্স হবে বা আল্লাহর কসম মিথ্যা বললে ডিভোর্স হয়ে যাবে" বা " আল্লাহর কসম মিথ্যা বললে যেন ডিভোর্স হয় বা আল্লাহর কসম মিথ্যা বললে যেন ডিভোর্স হয়ে যায়" বা " আল্লাহর কসম আমি যদি মিথ্যা বলে থাকি তাহলে যেন ডিভোর্স হয় বা আল্লাহর কসম আমি যদি মিথ্যা বলে থাকি তাহলে যেন ডিভোর্স হয়ে যায়" বা " আল্লাহর কসম আমি যদি মিথ্যা বলি তাহলে ডিভোর্স হবে বা আল্লাহর কসম আমি যদি মিথ্যা বলি তাহলে ডিভোর্স হয়ে যাবে"। অথচ আমি কিন্তু মিথ্যেই বলেছিলাম। মানে বান্ধবীকে মিথ্যে কথা বলেও এমন কসম করি। উপরে লেখা ৪ টা লাইনের ভেতর কোন লাইনটা বলেছিলাম আল্লাহর নামে কসম করে তা এখন আমার মনে নাই। তবে ৪ টা লাইনের ভেতর যেকোনো একটা লাইন বলেছিলাম। এবং কসম এর উক্ত লাইন টা আমি মুখ দিয়ে কতবার উচ্চারন করে বলেছিলাম বান্ধবীকে তাও নিশ্চিত এখন আমার মনে নেই। এই যে আমি প্রকৃতপক্ষে মিথ্যা কথা বলেও এভাবে যে কসম করলাম এতে কি আমার তালাক গ্রহন হয়ে যাবে?
স্বামীর সক্ষমতা না থাকায় পারিবারিক সমঝোতার ভিত্তিতে সাময়িক ভরণপোষণ না দিলে এবং স্ত্রী সেই হক্ব দাবী না করে সন্তুষ্ট থাকলে শরিয়তের দৃষ্টিতে ১৮ নং কলামে থাকা ভরণপোষণ দেওয়ার শর্ত ভঙ্গ হয়েছে বলে ধর্তব্য হয়না। তাই প্রশ্নকারীনি প্রশ্নোল্লিখিত বর্ণনা অনুযায়ী নিজের উপর তালাক গ্রহণের ক্ষমতাই লাভ করেনি। এজন্য প্রশ্নোক্ত কসমের কারণে তার উপর কোন তালাক পতিত হয়নি। অবশ্য মিথ্যা কসম করার কারণে আল্লাহ তায়ালার নিকট খাঁটি দিলে তওবা ও ইস্তেগফার করা আবশ্যক।
قال الله تعالى : يا أيها الذين آمنوا إذا نكحتم المؤمنات ثم طلقتموهن. (سورة الأحزاب، الآية: ٣٣)-
وفي سنن أبي داود: عَنْ عِمْرَانَ بْنِ حُصَيْنٍ، قَالَ: قَالَ النَّبِيُّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «مَنْ حَلَفَ عَلَى يَمِينٍ مَصْبُورَةٍ كَاذِبًا فَلْيَتَبَوَّأْ بِوَجْهِهِ مَقْعَدَهُ مِنَ النَّارِ. (باب التغليظ في الأيمان الفاجرة، ج:٣، ص:٢٢٠، رقم :٣٢٤٢، ط: المكتبة العصرية)-
و في مؤطأ مالك : عن سعيد بن المسيب ، أنه كان يقول: الطلاق للرجال، والعدة للنساء. (باب ما جاء في عدة الأمة، ج1، ص644، رقم: 1677، ط: مؤسسة الرسالة، بيروت)-
وفي الفتاوى الهندية : التفويض المعلق بشرط إما أن يكون مطلقا عن الوقت وإما أن يكون موقتا فإن كان مطلقا بأن قال إذا قدم فلان فأمرك بيدك فقدم فلان فأمرها بيدها إذا علمت في مجلسها الذي قدم فيه وإن كان موقتا بأن قال إذا قدم فلان فأمرك بيدك يوما أو قال اليوم الذي يقدم فيه فإذا قدم فلها الخيار في ذلك الوقت كله إذا علمت بالقدوم. (كتاب الطلاق، ج:١، ص:٣٩٦، ط: رشيدية)-
و فيها أيضا: و في التفويض بشرط إذا وجد الشرط وأرادت أن تطلق نفسها فلها ذلك. (كتاب الطلاق، ج:٦، ص:٢٦١، ط: رشيدية)-
وفي المحیط البرهاني:'والمعنى في ذلك أن النفقة إنما تجب عوضاً عن الاحتباس في بيت الزوج، فإذا كان الفوات لمعنى من جهة الزوج أمكن أن يجعل ذلك الاحتباس باقياً تقديراً، أما إذا كان الفوات بمعنى من جهة الزوجة لا يمكن أن يجعل ذلك الاحتباس باقياً تقديراً، وبدونه لا يمكن إيجاب النفقة''۔ (الفصل الأول في نفقة الزوجات، ج:٣، ص:٥٢٢، ط: دار الكتب العلمية، بيروت، لبنان)-
وفي الدر المختار: وشرعا: (هي الطعام والكسوة والسكنى) وعرفا هي: الطعام (ونفقة الغير تجب على الغير بأسباب ثلاثة: زوجية، وقرابة، وملك) بدأ بالأول لمناسبة ما مر أو؛ لأنها أصل الولد (فتجب للزوجة) بنكاح صحيح، فلو بان فساده أو بطلانه رجع بما أخذته من النفقة بحر (على زوجها) ؛ لأنها جزاء الاحتباس.". (کتاب الطلاق، باب النفقات، ج:٣، ص:٥٧٢، ط: سعید)-
وفي الهداية: فالغموس هو الحلف على أمر ماض يتعمد الكذب فيه فهذه اليمين يأثم فيها صاحبها لقوله عليه الصلاة والسلام: من حلف كاذبا أدخله الله النار ولا كفارة فيها إلا التوبة والاستغفار‘‘. (كتاب الأيمان، ج:٢، ص:٣١٧، ط: دار إحياء التراث العربي، بيروت، لبنان)-
و راجع أيضا في كفاية المفتي. (ج:٨، ص:٢٢٠، ط: إدارة الفاروق)-
و راجع أيضا في حيلة ناجزة.(ج:١، ص:٢٠، ط: دار الإشاعت)-