পরিক্ষায় আশ-পাশের ছাত্রদের থেকে দেখে দেখে লিখে অর্জিত সার্টিফিকেট দ্বারা লাভ করা চাকরির উপার্জন বৈধ কিনা

জায়েয-নাজায়েয,মুবাহাত ,পরিক্ষায় আশ-পাশের ছাত্রদের থেকে দেখে দেখে লিখে অর্জিত সার্টিফিকেট দ্বারা লাভ করা চাকরির উপার্জন বৈধ কিনা

Fatwa No :
263
| Date :
2025-12-10
জায়েজ-নাজায়েজ / জায়েয-নাজায়েয / মুবাহাত

পরিক্ষায় আশ-পাশের ছাত্রদের থেকে দেখে দেখে লিখে অর্জিত সার্টিফিকেট দ্বারা লাভ করা চাকরির উপার্জন বৈধ কিনা

আসসালামু আলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহি ওয়া বারাকাতুহ! বিভিন্ন সময়ে স্কুল-কলেজ- বিশ্ববিদ্যালয়ের নানা পরীক্ষায় অসুদোপায় অবলম্বন করে ফেলেছি। অনেক সময় পাশেরজনকে জিজ্ঞেস করে বিভিন্ন জিনিস লিখেছি। পরীক্ষার হলের পরিদর্শকের চোখ ফাঁকি দিয়ে পাশেরজনের খাতায় উঁকিঝুঁকি দিয়ে দেখে লিখেছি। এতে করে হয়ত কিছু নম্বর কম-বেশী পেয়েছি। অনেক সময় পাশের জনকে এমন কাজ করতে সাহায্যও করেছি। এমন কাজ করে পরীক্ষায় যে ফলাফল লাভ করেছি, যে সার্টিফিকেট পেয়েছি, তা নিশ্চয়ই আমার সঠিক যোগ্যতাকে নির্দেশ করে না। এসব করে আমি আমানতের খিয়ানত করেছি। এগুলোর মাঝে হারাম মিশে গেছে। স্কুলের সার্টিফিকেট ব্যবহার করে কলেজে ভর্তি হয়েছি। কলেজের সার্টিফিকেট ব্যবহার করে বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হয়েছি। এসব ব্যবহার করে উপার্জন করেছি। যখন এসব করেছি, আমি জানতাম খারাপ কাজ করছি। আশেপাশের সবাই করে দেখে খুব সহজভাবেই মেনে নিয়েছি। কাজটা ভালো হচ্ছে না জানলেও গুনাহের বোধ মনে জাগে নাই। মনে হয়েছে, পরীক্ষক বা পরীক্ষার হলের পরিদর্শককে ফাঁকি দিতে পারলেই যথেষ্ট। কিন্তু এখন সামগ্রিকভাবে সব চিন্তা করে খুবই মনঃকষ্টে আছি। আমার পড়ালেখার সমস্ত অর্জনেই গুনাহ, আমানতের খিয়ানত মিশে আছে, এটা মেনে নিতে পারছি না। আমার উপার্জনে হারাম মিশে গেছে ভেবে খুবই অনুশোচনায় ভুগছি। আমি আমার গুনাহের জন্যে আমি তওবা করতে চাই, কাফফারা দিতে চাই। খিয়ানত করলে, আমানত ফেরত দেয়া জরুরী। কিন্তু এসএসসি, এইচএসসি বা বিশ্ববিদ্যালয়ের সার্টিফিকেট ফেরত দেওয়ার কোনো বাস্তব উপায় আমার জানা নেই। আমি সত্যিই দ্বিধাগ্রস্ত। কীভাবে সঠিকভাবে তওবা করব? কীভাবে কাফফারা আদায় করব? কীভাবে আমার উপার্জনকে আমি হারামমুক্ত করতে পারি? মুহতারাম, এ বিষয়ে আপনাদের সুচিন্তিত পরামর্শ ও দিকনির্দেশনা কামনা করছি। আল্লাহ তায়ালা আপনাদের উত্তম জাযা দান করুন।

الجوابُ حامِدا ًو مُصلیِّا ً وَمُسَلِّمًا

কোন ব্যক্তি যদি বাস্তবেই কোন দায়িত্ব পালনের উপযুক্ত ও যোগ্য হয় এবং সততা ও আমানতদারীতার সঙ্গে নিজ দায়িত্ব আঞ্জাম দিয়ে থাকে তাহলে শরীয়তের দৃষ্টিতে তার উপার্জিত অর্থ হালাল হিসেবে গণ্য হয়। যদিও সে নকল করে অর্জিত সার্টিফিকেট দিয়েই চাকরিতে জয়েন্ট করে থাকুক না কেন। সুতরাং প্রশ্নকারী যদি নিজ চাকরির উপযুক্ত ব্যক্তি হন এবং আমানতদারিতার সাথে কাজ করে থাকেন । তাহলে নিঃসন্দেহে তার উপার্জন হালাল। অবশ্য ধোঁকাবাজি করে ও নকলের আশ্রয় নিয়ে পরীক্ষা দিয়ে সার্টিফিকেট অর্জন করা সুস্পষ্ট প্রতারণা ও আমানতের খেয়ানত। যা অনেক বড় গুনাহের কাজ। যার থেকে আল্লাহর নিকট খাটি দিলে তওবা ও ইস্তেগফার করা আবশ্যক। এ ছাড়া এর জন্য আলাদা কোন কাফফারা নেই।

مأخَذُ الفَتوی

كما في صحيح مسلم: عن أبي هريرة أن رسول الله صلى الله عليه وسلم قال:"من حمل علينا السلاح فليس منا. ومن غشنا فليس منا" (ج:1، ص:99، رقم:101، ط: مطبعة عيسى البابي البابي الحبلى وشركة)-
و في الفتاوى الهندية: الأجرة تستحق بأحد معان ثلاثة إما بشرط التعجيل أو بالتعجيل أو باستيفاء المعقود عليه فإذا وجد أحد هذه الأشياء الثلاثة فإنه يملكها. (كتاب الأجرة، الباب الثاني، ج:4، ص:413، ط: دار الفكر)-
وفي المحيط البرهاني: ثم المذهب عند جمهور الفقهاء: أن جميع أنواع الكسب في الإباحة على السواء. (الفصل الرابع عشر في الكسب، ج:5، ص:45، ط: دار الفكر، بيروت)-
وفي رد المحتار: تحت (قوله: وجوب أجر المثل) والأجر يطيب وإن كان السبب حراما الخ. (باب الإجارة الفاسد، ج:6، ص:45، ط: دار الفكر، بيروت)-
وفي أحسن الفتاوى: امتحان میں ایک دوسرے سے پوچھنا یا لکھے کاغز یا کتاب چھپا کر ساتھ لے جانا اور اس سے دیکھ کر سوالات کا جواب لکھنا وجوہ ذیل کی بناء پر شرعا ناجائز اور حرام ہے۔
(١) اس میں قانون کی خلاف ورزی ہے جو ناجائز ہے۔
(٢) ممتحن کو دھوکا دیا جاتا ہے، اس لیے کہ ممتحن تو یہی سمجھے گا کہ یہ جواب طالب علم نے خود اپنی یاد داشت سے لکھا ہے۔
(٣) یہ ظاہر کرنا کہ یہ جواب لکھنے والے نے خود اپنی قابلیت سے لکھا ہے جھوٹ ہے۔
(٤) اس قسم کے امتحان سے نالائق شخص اپنی لیاقت ظاہر کرے مختلف محکموں میں ایسے کام پر لگے گا جس کی اس میں صلاحیت نہیں، جس میں ملک و ملت کا سخت نقصان ہے۔ واللہ سبحانہ وتعالیٰ اعلم ۔ (متفرقات الحظر والإباحة، ج:8، ص:222، ط: سعيد)-
وفي آپ کے مسائل اور ان کا حل : جواب:جس منصب پر مقرر کیا گیا ہے اگروہ اس کام کی پوری صلاحیت رکھتا ہے اور کام بھی پوری دیانتداری سے کرتا ہے تو اس کی کمائی حلال ہے-البتہ وہ جھوٹ اور غلط کری کا مرتکب ہے اگر وہ اس کام کا اہل نہیں یا اہل ہے مگر کم دیانتداری سے نہیں کرتا تو کمائی حلال نہی۔ (جعلی سرٹیفیکٹ کے ذریعہ حاصل شدہ ملازمت کا شرعی حکم، ج:8، ص:161، ط: مکتبہ لدھیانوی)-

واللہ تعالی أعلم بالصواب
حسين أنور عُفی عنه
دار الإفتاء الجامعة البنورية الإسلامية

Fatwa No 263 Verify Now
1     30
Related Fatawa Related Fatawa
...
Related Topics Relative Topics