নিকাহ নামার ১৮ নং ধারা পুরোপুরি শূন্য থাকা অবস্থায় স্বামী স্বাক্ষর করলে কী স্ত্রী তালাক গ্রহণের অধিকার লাভ করবে

তালাকের বিধিবিধান ,তাফবিযে তালাক (তালাকের ক্ষমতা প্রদান),নিকাহ নামার ১৮ নং ধারা পুরোপুরি শূন্য থাকা অবস্থায় স্বামী স্বাক্ষর করলে কী স্ত্রী তালাক গ্রহণের অধিকার লাভ করবে

Fatwa No :
164
| Date :
2025-09-18
মুআমালাত / তালাকের বিধিবিধান / তাফবিযে তালাক (তালাকের ক্ষমতা প্রদান)

নিকাহ নামার ১৮ নং ধারা পুরোপুরি শূন্য থাকা অবস্থায় স্বামী স্বাক্ষর করলে কী স্ত্রী তালাক গ্রহণের অধিকার লাভ করবে

আসসালামু আলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহ! মুহতারাম মুফতি সাহেব! আমার বিয়ের সময় আমি কাজী সাহেবকে ১৮ নং কলমে "না" লিখতে বলি, কিন্তু পরিস্থিতির বিভিন্ন কারণে সে আমাকে "না" লিখতে দেয় নাই। অতঃপর ১৮ নং ধারা সম্পূর্ণ শূন্য থাকা অবস্থায় আমি কাবিননামায় স্বাক্ষর করি। কিন্তু স্বাক্ষর করার সময় আমার এটা জানা ছিল যে, আমি স্বাক্ষর করার পরে কাজী নিজ থেকে সেখানে স্ত্রীকে বিভিন্ন শর্তে তালাকের ক্ষমতা প্রদান করার কথা লিখে দিবে। (তবে আমি তাতে সন্তুষ্ট ছিলাম না, আমার পক্ষ থেকে এর অনুমতিও ছিল না।) তো এটা জানার পরও আমি ১৮ নং ধারা সম্পূর্ণ শূন্য থাকা অবস্থায় স্বাক্ষর করি। এখন শ্রদ্ধেয় মুফতি সাহেবের নিকট আমার প্রশ্ন হলো- যেহেতু ১৮ নং ধারা পুরোপুরি শূন্য থাকা অবস্থায় আমি স্বাক্ষর করেছি। তো এখন কি আমার স্ত্রী নিজেকে তালাক প্রদানের ক্ষমতা পেয়েছে বলে গণ্য হবে? অর্থাৎ এখন আমার স্ত্রী ১৮ নং কলামে উল্লেখিত শর্তের ভিত্তিতে (যেগুলো কাজী নিজ থেকে আমার স্বাক্ষর করার পর শূন্য ঘরে লিখে দিয়েছিল) নিজেকে তালাক দিলে এতে কি তালাক কার্যকর হবে? নাকি অকার্যকর হবে? জানিয়ে আমাকে চির কৃতজ্ঞ করবেন।

الجوابُ حامِدا ًو مُصلیِّا ً وَمُسَلِّمًا

প্রশ্নোল্লিখিত সূরতে প্রশ্নকারী যদিও শূন্য কাবিন নামায় সাইন করেছেন, তবুও শরিয়তের দৃষ্টিতে কাজী সাহেবের লিখিত শর্ত পাওয়ার পর প্রশ্নকারীর স্ত্রী নিজের উপর এক তালাকে রজয়ী (এক তালাক) গ্রহণের ক্ষমতা লাভ করবে।

مأخَذُ الفَتوی

كما في سنن ابن ماجه : عن ابن عباس، قال: أتى النبي صلى الله عليه وسلم رجل، فقال: يا رسول الله، إن سيدي ‌زوجني ‌أمته، وهو يريد أن يفرق بيني وبينها، قال: فصعد رسول الله صلى الله عليه وسلم المنبر، فقال: «يا أيها الناس، ما بال أحدكم يزوج عبده أمته، ثم يريد أن يفرق بينهما، إنما الطلاق لمن أخذ بالساق. (باب طلاق العبد، ج1، ص 672، رقم:2081، ط: دار إحياء الكتب العربية)-
و في مؤطأ مالك : عن سعيد بن المسيب ، أنه كان يقول: ‌الطلاق ‌للرجال، ‌والعدة ‌للنساء. (باب ما جاء في عدة الأمة، ج1، ص644، رقم: 1677، ط:مؤسسة الرسالة، بيروت)-
وفي البحر الرائق: أما إذَا كَانَ مُعَلَّقًا بِالشَّرْطِ فَلَا يَصِيرُ الْأَمْرُ بِيَدِهَا إلَّا إذَا جَاءَ الشَّرْطُ. (فصل في الأمر باليد، ج:٣، ص:٣٥١، ط: دار الكتاب الإسلامي)-
وفي الفتاوى الهندية : وإذا أَضَافَهُ إلَى الشَّرْطِ وَقَعَ عَقِيبَ الشَّرْطِ اتِّفَاقًا. (الفصل الثالث في تعليق الطلاق بكلمة إن و إذا و غيرهما، ج:١، ص:٤٢٠، ط: المطبعة الكبرى)-
وفي بدائع الصنائع: وأما التَّفْوِيضُ الْمُعَلَّقُ بِشَرْطٍ فَلَا يَخْلُو مِنْ أَحَدِ وَجْهَيْنِ إمَّا أَنْ يَكُونَ مُطْلَقًا عَنْ الْوَقْتِ، وَإِمَّا أَنْ يَكُونَ مُؤَقَّتًا، فَإِنْ كَانَ مُطْلَقًا بِأَنْ قَالَ: إذَا قَدِمَ فُلَانٌ فَأَمْرُكِ بِيَدِك فَقَدِمَ فُلَانٌ فَالْأَمْرُ بِيَدِهَا. (فصل في قوله أمرك بيدك، ج:٣، ص:١١٦، ط: دار الكتب العلمية)-
وفي الدر المختار: (قَالَ لَهَا طَلِّقِي نَفْسَك وَلَمْ يَنْوِ أَوْ نَوَى وَاحِدَةً) أَوْ ثِنْتَيْنِ فِي الْحُرَّةِ (فَطَلَّقَتْ وَقَعَتْ رَجْعِيَّةً، وَإِنْ طَلَّقَتْ ثَلَاثًا وَنَوَاهُ وَقَعْنَ). (باب تفويض الطلاق، فَصْلٌ فِي الْمَشِيئَةِ، ج:٣، ص:٣٣١، ط: دار الفكر)-
وفي كفايت المفتى :اقرار نامہ کی عبارت شوہر کے الفاظ میں اس طرح سے ہو کہ :اگر میں بد فعل ہو جاؤں یا بلا اجازت اپنی اہلیہ فلاں بنت فلاں سے عقدِ ثانی کرلوں، تو میری اہلیہ فلاں بنت فلاں کو میری طرف سے یہ حق اور اختیار حاصل ہے کہ وہ اپنے اوپر طلاق بائن جب چاہے ڈال لئے۔ اس کے بعد اگر دونوں شرطوں میں سے کسی ایک کی خلاف ورزی پر عورت اپنے نفس پر طلاق ڈال لے طلاق بائن پڑ جائے گی. (ج:٨، ص:٢٢٠، ط: إدارة الفاروق)-

واللہ تعالی أعلم بالصواب
عاشق بن سيف الإسلام عُفی عنه
دار الإفتاء الجامعة البنورية الإسلامية

Fatwa No 164 Verify Now
0     107
Related Fatawa Related Fatawa
...
Related Topics Relative Topics