জ্বীন দ্বারা রুকিয়া তথা ঝাঁড়-ফুক জায়েয আছে কিনা

জায়েয-নাজায়েয,মুবাহাত ,জ্বীন দ্বারা রুকিয়া তথা ঝাঁড়-ফুক জায়েয আছে কিনা

Fatwa No :
107
| Date :
2025-07-25
জায়েজ-নাজায়েজ / জায়েয-নাজায়েয / মুবাহাত

জ্বীন দ্বারা রুকিয়া তথা ঝাঁড়-ফুক জায়েয আছে কিনা

আসসালামু আলাইকুম! মুহতারাম মুফতি সাহেব! আমি কয়েক মাস আগে সাংসারিক সমস্যায় এতটা ভেঙে পড়ি যে বিচ্ছেদের চিন্তা চলে আসে। তখন হঠাৎ মনে হইল আমি বদ নজর বা অন্য কিছুতে আক্রান্ত কিনা। পরিচিত মহলে একজন হুজুরের সন্ধান পাই। সব সমস্যা জানানোর পর উনি আমাকে ইস্তেগফার আর একটা তাসবিহ দেন প্রতি নামাজের পর পড়ার জন্য। আমি যখন আমার সমস্যা জানাই তখন আমি বারবার করে বলেছি যেন শরীয়ত সম্মত ভাবে কাজের নিশ্চয়তা দেয়া হয়। নইলে আমি কাজ করাব না। তিনি আমাকে আস্বস্ত করে যে তারা কোন তাবিজ দিচ্ছেনা। সুতরাং এটা নিয়ে দুশ্চিন্তা না করতে। একটা ভালো এমাউন্ট হাদিয়াও নেন এবং আমার সংসারের অবস্থা স্থিতিশীল হয় কিছুদিন এর মধ্যে। তো পরিচয় সূত্রে আমি জানার চেষ্টা করি তারা কিভাবে কাজ করে। উনাদের পারিবার এর সাথে জ্বীনের একটা মিউচুয়াল সম্পর্ক আছে। মানে জ্বীন নিজে থেকেই সাহায্য করে। বাধ্য করে রাখা জ্বীন না। তারা সমস্যা শুনে, সমস্যার মূল খুঁজে বের করে। ঝাড়ফুক করে, বান বা জাদু ছুটিয়ে দেয়। আর পুরো টাকাটা মসজিদে দান করে দিতে হয়। তো যেহেতু আমাকে না দেখে, আমাকে কোন তাবিজ না দিয়ে চিকিৎসা করে দিয়েছেন তো আমি সন্তুষ্ট ছিলাম। ভেবেছিলাম এটা জায়েজ। আর যার মাধ্যমে করিয়েছি তিনি নিজেও আলেম। আমি ভালো হয়ে আর ৩ জনকে রেফারও করি। কিন্তু আমি সম্প্রতি এই বিষয় নিয়ে আরও বিস্তারিত জেনেছি যে জ্বীন দ্বারা রুকিয়া করা যাবে না। আমি এজন্য আশংকা করে ফেলছি প্রচন্ড গুনাহর কাজ করে ফেললাম কিনা। এখন আমার কারণীয় কি?

الجوابُ حامِدا ًو مُصلیِّا ً وَمُسَلِّمًا

শরীয়ত কর্তৃক নির্দিষ্ট শর্তসমূহ পাওয়া গেলে রুকিয়া তথা ঝাঁড়-ফুক করা এবং তার বিনিময় গ্রহণ করা উভয়টাই বৈধ। চাই সেটা নিজে করুক কিংবা অন্য কেউ তথা জিনের মাধ্যমেই করানো হোক। শর্তগুলো হল :
(১)কোরআনুল কারীমের আয়াত অথবা আল্লাহ তায়ালার সত্তাগত কিংবা গুণবাচক নামের মাধ্যমে হতে হবে।
(২) আরবি ভাষায় হতে হবে।
(৩) অর্থ বা তাৎপর্য জেনে করতে হবে।
(৪) বিশ্বাস থাকতে হবে যে আল্লাহ তায়ালাই সবকিছু করেন। এটাকে শুধু উসিলা হিসেবে গ্রহণ করতে হবে।
(৫) শরীয়ত বিরোধী কোন কাজ যেমন পর্দা লঙ্ঘন ইত্যাদি না থাকতে হবে।
অতএব উল্লিখিত শর্ত সমূহ পাওয়া গেলে প্রশ্নোক্ত ক্ষেত্রে রুকিয়া বা ঝাড়-ফুক করা ও তার বিনিময় গ্রহণ করা উভয়টাই বৈধ হয়েছে।

مأخَذُ الفَتوی

كما في سنن أبي داود: عن أَبِي سَعِيدٍ الْخُدْرِيِّ، أَنَّ رَهْطًا، مِنْ أَصْحَابِ النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ انْطَلَقُوا فِي سَفْرَةٍ سَافَرُوهَا فَنَزَلُوا بِحَيٍّ مِنْ أَحْيَاءِ الْعَرَبِ فَقَالَ بَعْضُهُمْ: إِنَّ سَيِّدَنَا لُدِغَ فَهَلْ عِنْدَ أَحَدٍ مِنْكُمْ شَيْءٌ يَنْفَعُ صَاحِبَنَا، فَقَالَ رَجُلٌ مِنَ الْقَوْمِ: نَعَمْ وَاللَّهِ إِنِّي لَأَرْقِي وَلَكِنِ اسْتَضَفْنَاكُمْ فَأَبَيْتُمْ أَنْ تُضَيِّفُونَا، مَا أَنَا بِرَاقٍ حَتَّى تَجْعَلُوا لِي جُعْلًا، فَجَعَلُوا لَهُ قَطِيعًا مِنَ الشَّاءِ، فَأَتَاهُ فَقَرَأَ عَلَيْهِ أُمَّ الْكِتَابِ وَيَتْفُلُ حَتَّى بَرَأَ كَأَنَّمَا أُنْشِطَ مِنْ عِقَالٍ، قَالَ: فَأَوْفَاهُمْ جُعْلَهُمُ الَّذِي صَالَحُوهُمْ عَلَيْهِ فَقَالُوا: اقْتَسِمُوا فَقَالَ: الَّذِي رَقَى لَا تَفْعَلُوا حَتَّى نَأْتِيَ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَنَسْتَأْمِرَهُ فَغَدَوْا عَلَى رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَذَكَرُوا لَهُ فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: مِنْ أَيْنَ عَلِمْتُمْ أَنَّهَا رُقْيَةٌ، أَحْسَنْتُمْ، اقْتَسِمُوا، وَاضْرِبُوا لِي مَعَكُمْ بِسَهْمٍ (كتاب الطب، باب كيف الرقى، رقم:٣٩٠٠، ط:مكتبة الإسلامي)-
وفي بذل المجهود من تشريح الحديث المذكور: الحديث أعظم دليل على أن يجوز الأجرة على الرقى والطب، كما قاله الشافعي ومالك وأبو حنيفة وأحمد. (کتاب الطب، باب کیف الرقی، ج:11، ص: 267،  ط: مرکز الشیخ، الهند)-
وفي صحيح مسلم : عَنْ عَوْفِ بْنِ مَالِكٍ الْأَشْجَعِيِّ، قَالَ: كُنَّا نَرْقِي فِي الْجَاهِلِيَّةِ فَقُلْنَا يَا رَسُولَ اللهِ كَيْفَ تَرَى فِي ذَلِكَ فَقَالَ: اعْرِضُوا عَلَيَّ رُقَاكُمْ، لَا بَأْسَ بِالرُّقَى مَا لَمْ يَكُنْ فِيهِ شِرْكٌ. (باب لا بأس بالرقي ما لم يكن فيه شرك، رقم:٢٢٠٠، ط:دار القلم)-
وفي فتح الباري: وقد أجمع العلماء ‌على ‌جواز ‌الرقى عند اجتماع ثلاثة شروط: أن يكون بكلام الله تعالى أو بأسمائه وصفاته وباللسان العربي أو بما يعرف معناه من غيره وأن يعتقد أن الرقية لا تؤثر بذاتها بل بذات الله تعالى واختلفوا في كونها شرطا والراجح أنه لا بد من اعتبار الشروط المذكورة. (کتاب الطب، باب الرقي، ج: 10، ص: 195، ط: دارالمعرفة)-
و في رد المحتار : تحت(قَوْلُهُ التَّمِيمَةُ الْمَكْرُوهَةُ) أَقُولُ: الَّذِي رَأَيْته فِي الْمُجْتَبَى التَّمِيمَةُ الْمَكْرُوهَةُ مَا كَانَ بِغَيْرِ الْقُرْآنِ، وَقِيلَ: هِيَ الْخَرَزَةُ الَّتِي تُعَلِّقُهَا الْجَاهِلِيَّةُ اهـ فَلْتُرَاجَعْ نُسْخَةٌ أُخْرَى. وَفِي الْمُغْرِبِ وَبَعْضُهُمْ يَتَوَهَّمُ أَنَّ الْمُعَاذَاتِ هِيَ التَّمَائِمُ وَلَيْسَ كَذَلِكَ إنَّمَا التَّمِيمَةُ الْخَرَزَةُ، وَلَا بَأْسَ بِالْمُعَاذَاتِ إذَا كُتِبَ فِيهَا الْقُرْآنُ، أَوْ أَسْمَاءُ اللَّهِ تَعَالَى، وَيُقَالُ رَقَاهُ الرَّاقِي رَقْيًا وَرُقْيَةً إذَا عَوَّذَهُ وَنَفَثَ فِي عُوذَتِهِ قَالُوا: إنَّمَا تُكْرَهُ الْعُوذَةُ إذَا كَانَتْ بِغَيْرِ لِسَانِ الْعَرَبِ، وَلَا يُدْرَى مَا هُوَ وَلَعَلَّهُ يَدْخُلُهُ سِحْرٌ أَوْ كُفْرٌ أَوْ غَيْرُ ذَلِكَ، وَأَمَّا مَا كَانَ مِنْ الْقُرْآنِ أَوْ شَيْءٍ مِنْ الدَّعَوَاتِ فَلَا بَأْسَ بِهِ.(فصل في اللبس، ج:٦، ص:٣٦٣، ط:دار الفكر)-

واللہ تعالی أعلم بالصواب
عاشق بن سيف الإسلام عُفی عنه
دار الإفتاء الجامعة البنورية الإسلامية

Fatwa No 107 Verify Now
2     127
Related Fatawa Related Fatawa
...
Related Topics Relative Topics